মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে এগারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

সভায় বক্তারা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়া ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘করোনা মহামারির সময়ে সমগ্র দেশ আজ ধর্ষণের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। নারীরা যখন তাদের মেধা, শ্রম ও নিজ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছে তখন ক্রমবর্ধমান হারে সহিংসতার ঘটনা নারীদের এগিয়ে চলায় এক বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। বিংশ শতাব্দীতে এসে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু নারীর প্রতি ভাবনার ক্ষেত্রে মানসিকতার উন্নয়ন ঘটেনি। সহিংসতার ঘটনায় রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় যে বিভিন্ন অপরাধী বাহিনী গড়ে উঠছে এগুলি প্রশাসন থেকে প্রতিহত করা না হলে সহিংসতার ঘটনা বাড়তেই থাকবে।’

এমতাবস্থায় প্রশাসনের নিশ্চুপ অবস্থা নিয়ে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, ‘ধর্ষণ সকল দেশেই হয় এমন মানসিকতা যতদিন রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা বহন করবেন ততদিন দেশ এই সহিংসতা থেকে মুক্ত হবে না। সহিংসতা দূর করতে সংসদে জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি করা, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হবে। ধর্ষণের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও রাজনীতির ছত্রছায়ায় অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে, তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

আরও পড়ুন: মানবাধিকার সুরক্ষা ও অগ্রায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ : রাবাব ফাতিমা

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনায় তারা তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিবাদ সমাবেশে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, সহ সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম।

আরও বক্তব্য রাখেন-মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি নাজরানা হক হীরা, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সেলিনা পারভীন, ব্র্যাক এর বিমান হালদার, বিলস এর নাসরিন আক্তার, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের চন্দন লাহিড়ী, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ফাহমিদা জামান রনি ও ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ এর অ্যাড. সাবিনা শ্রিপা দাস প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে এবং এই বিষয়ে রাষ্ট্র জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের জন্য স্লোগান দেওয়া হয়।প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক জনা গোস্বামী।

ইত্তেফাক/এএএম